লিখিয়াছি কবিবংশ আদি সে-কিতাব, তবুও তো ধরে রাখি অতৃপ্তি অভাব। বংশ বংশ করি
বেশ কেটে গেলো কাল, রক্তে জাগে সেই ভাষা যাবনী মিশাল। শ্রীকর নন্দীর বাণী
দেশী ভাষা কহে, কবি শেখর এ-বংশে লৌকিক বিছারে। বঙ্গবাণী নাম ধরি আব্দুল
হাকিম, ভাষাবংশে আদিগুরু আমি সে তো হীন। কী প্রকারে তার নামে প্রণামিব হায়,
আতারে-পাতারে খুঁজি মনে ন জুয়ায়। সেই তো হয়েছে শুরু আমাদের দিন, ভুসুকুপা
তস্যণ্ডরু বাঙ্গালী প্রাচীন। আরো এক বংশবাতি সগীরের নামে, বৃন্দাবন দাস নমি
চৈতন্য প্রচারে। বড়ুচণ্ডীদাস ভনে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মুকুন্দ রামের নামে
পরাই চন্দন। রামাই পণ্ডিত রচে পাঁচালি সঙ্গীত, প্রভুর চরণে মজে নিজ মত্ত
চিত। সেই যে বাঁধিল গীত কানা হরিদত্ত, এ-মূর্খ রচিবে কী যে ভবেতে প্রমত্ত।
বিজয় গুপ্তের নামে বংশবাতি পায়, ইরম মাগিছে দয়া বংশগরিমায়।
পরিশিষ্ট প্রণাম: প্রণামে-সুনামে গড়ি শব্দ-বাক্য-মিথ, পয়ারে-খেয়ালে শুধু গাই বংশগীত। অন্ধকার যুগে বাঁধি গয়েবি কামোদ, পটমঞ্জরীতে সঁপি সেই সুদবোধ। আমি যে বাঁধিবো তাল কুলিন রাগিনী, ভূর্জপত্রে নতজানু দয়া কী মাগিনী! তুমি কন্যা বেঁধো সুর মর্জি যদি হয়, এই বংশে জেগে থাকে চর্যাবিনিশ্চয়।
চন্দনচারা
সেই কবে লাগিয়েছি চন্দনের চারা
একদিন ফুটাবে সে ঘ্রাণ
এই মর্মে প্রতিদিন তিলে তিলে জাগল হচ্ছে সে
স্বজনেরা গালমন্দ করে
কেন আমি লাগাচ্ছি না সহজেই বেড়ে-ওঠা গাছ
কী দরকার এতো চন্দনের ঘ্রাণ
কী দরকার অপেক্ষা এতো
এক জীবনে না-দেখা ফল
কাজের অর্জন!
তবুও খায়েস বাড়ে
রুয়ে যেতে চন্দনের চারা তুচ্ছ করে নগদ ফলন
কোনো একদিন যদি বেড়ে উঠে ফোটায় সুঘ্রাণ
এই ভেবে রাত্রি জেগে স্বজন হারাই, অপেক্ষা বাড়াই
রুয়ে রাখি ধীরে-বাড়া চন্দনের চারা, ক্ষয় করে সোনার তনাই।
বংশের দোকান
দিবারাত্রি খোলা রাখি বংশের দোকান।
মুনাফা করি না কোনো, দোকানি হয়েছি শুধু তোমার করুণা পাবো, তাই এই তেজারতি, তাই এই আড়তি আমার!
এ-জীবনে হায় বাকি চাহিয়া অনেক লজ্জা জমা করিয়াছি, তবু তোমার অপেক্ষা করে আগলে রাখি বংশের গদি, ঋণের আড়ত। ফতুর হয়েছে যারা ঘুরেফিরে বাজারে-টাউনে, তাদের নিকটে গিয়ে বাড়িয়েছি আরো আরো কারবারি দেনা, ইরাদা আমার!
পাইকারিতে ধরে না মন, গোষ্ঠীপ্রীতি রক্তে মিশে রয়। শরমিন্দা এ-আমি তবুও খোলা রাখি বংশের গদি, তোমার তরিকা।
দেহকারিগর
এই ক্রন্দনশীল রাতে
ওহে শব্দকারিগর
তোমার সকাশে
উড়ে আসে শব্দরেণু উচ্ছ্বাস ভঞ্জন
হে অঙ্কনবিদ
বংশসহোদর
রেখা-বাক্য-রঙের জাতক
যারা ছিলো
গোত্র-অধিপতি
তাদের তলণ্ঢাটে
অঙ্কন করেছো তুমি ডানাহীন বায়ু
জলের উড়াল...
গড়েছো আদল যতো
নেত্রহীন দেহগুলো বৃথা যায়
বৃথা যায়...
ওহে দেহকারিগর
অহোরাত্রি এঁকেছো যে দেহের গড়ন
কবে তবে নেত্রদিন
কবে তবে প্রাণের অঙ্কন!
পো: কামালপুর বাজার
কামালপুর বাজারের নরসুন্দরেরা আমার জাসদ বাবরি কেটে দিয়েছে বড়ো যত্ন সহকারে, খলিফারা যথারীতি কাপড় সেলাই করে দিয়েছে বড়ো মন মতো করে, খেয়াঘাট ড্রাইক্লিনার্স থেকে হামেশাই ধবধবা হয়ে ফিরেছে আমার দুধসাদা সার্ট, পোস্ট অফিস আমাকে ঠিকই পৌঁছে দিয়েছে পত্রমিতালীর চিঠি, জং ধরা ডাকবাক্সে তোমার নামে ফেলেছি কতো বেয়ারিং কুশল— অপেক্ষা প্রহর, ৩ নং কামালপুর ইউনিয়নের দাওয়ায় আমারও কেটেছে কতো স্কুল পালানো দিন, তুমিও গিয়েছো হেঁটে উড়িয়ে ধুলো সদর রাস্তায় বহুপাক্ষিক বিদ্যালয়ের দিনে।
আজও আমি লাস্টবেঞ্চ, আজও আমি ৩ নং কামালপুর ইউনিয়নের দাওয়ায় স্কুল পালানো দিন— কী করে আমি তবে দেশছাড়া বংশছাড়া হই!
পরিশিষ্ট প্রণাম: প্রণামে-সুনামে গড়ি শব্দ-বাক্য-মিথ, পয়ারে-খেয়ালে শুধু গাই বংশগীত। অন্ধকার যুগে বাঁধি গয়েবি কামোদ, পটমঞ্জরীতে সঁপি সেই সুদবোধ। আমি যে বাঁধিবো তাল কুলিন রাগিনী, ভূর্জপত্রে নতজানু দয়া কী মাগিনী! তুমি কন্যা বেঁধো সুর মর্জি যদি হয়, এই বংশে জেগে থাকে চর্যাবিনিশ্চয়।
চন্দনচারা
সেই কবে লাগিয়েছি চন্দনের চারা
একদিন ফুটাবে সে ঘ্রাণ
এই মর্মে প্রতিদিন তিলে তিলে জাগল হচ্ছে সে
স্বজনেরা গালমন্দ করে
কেন আমি লাগাচ্ছি না সহজেই বেড়ে-ওঠা গাছ
কী দরকার এতো চন্দনের ঘ্রাণ
কী দরকার অপেক্ষা এতো
এক জীবনে না-দেখা ফল
কাজের অর্জন!
তবুও খায়েস বাড়ে
রুয়ে যেতে চন্দনের চারা তুচ্ছ করে নগদ ফলন
কোনো একদিন যদি বেড়ে উঠে ফোটায় সুঘ্রাণ
এই ভেবে রাত্রি জেগে স্বজন হারাই, অপেক্ষা বাড়াই
রুয়ে রাখি ধীরে-বাড়া চন্দনের চারা, ক্ষয় করে সোনার তনাই।
বংশের দোকান
দিবারাত্রি খোলা রাখি বংশের দোকান।
মুনাফা করি না কোনো, দোকানি হয়েছি শুধু তোমার করুণা পাবো, তাই এই তেজারতি, তাই এই আড়তি আমার!
এ-জীবনে হায় বাকি চাহিয়া অনেক লজ্জা জমা করিয়াছি, তবু তোমার অপেক্ষা করে আগলে রাখি বংশের গদি, ঋণের আড়ত। ফতুর হয়েছে যারা ঘুরেফিরে বাজারে-টাউনে, তাদের নিকটে গিয়ে বাড়িয়েছি আরো আরো কারবারি দেনা, ইরাদা আমার!
পাইকারিতে ধরে না মন, গোষ্ঠীপ্রীতি রক্তে মিশে রয়। শরমিন্দা এ-আমি তবুও খোলা রাখি বংশের গদি, তোমার তরিকা।
দেহকারিগর
এই ক্রন্দনশীল রাতে
ওহে শব্দকারিগর
তোমার সকাশে
উড়ে আসে শব্দরেণু উচ্ছ্বাস ভঞ্জন
হে অঙ্কনবিদ
বংশসহোদর
রেখা-বাক্য-রঙের জাতক
যারা ছিলো
গোত্র-অধিপতি
তাদের তলণ্ঢাটে
অঙ্কন করেছো তুমি ডানাহীন বায়ু
জলের উড়াল...
গড়েছো আদল যতো
নেত্রহীন দেহগুলো বৃথা যায়
বৃথা যায়...
ওহে দেহকারিগর
অহোরাত্রি এঁকেছো যে দেহের গড়ন
কবে তবে নেত্রদিন
কবে তবে প্রাণের অঙ্কন!
পো: কামালপুর বাজার
কামালপুর বাজারের নরসুন্দরেরা আমার জাসদ বাবরি কেটে দিয়েছে বড়ো যত্ন সহকারে, খলিফারা যথারীতি কাপড় সেলাই করে দিয়েছে বড়ো মন মতো করে, খেয়াঘাট ড্রাইক্লিনার্স থেকে হামেশাই ধবধবা হয়ে ফিরেছে আমার দুধসাদা সার্ট, পোস্ট অফিস আমাকে ঠিকই পৌঁছে দিয়েছে পত্রমিতালীর চিঠি, জং ধরা ডাকবাক্সে তোমার নামে ফেলেছি কতো বেয়ারিং কুশল— অপেক্ষা প্রহর, ৩ নং কামালপুর ইউনিয়নের দাওয়ায় আমারও কেটেছে কতো স্কুল পালানো দিন, তুমিও গিয়েছো হেঁটে উড়িয়ে ধুলো সদর রাস্তায় বহুপাক্ষিক বিদ্যালয়ের দিনে।
আজও আমি লাস্টবেঞ্চ, আজও আমি ৩ নং কামালপুর ইউনিয়নের দাওয়ায় স্কুল পালানো দিন— কী করে আমি তবে দেশছাড়া বংশছাড়া হই!
No comments:
Post a Comment