জয়পুরহাট: বৃষ্টি মণ্ডল জিপিএ-৪ পেয়েছে। বাবা-মায়ের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। পূরণ হয়েছে তার ইচ্ছাও। শিক্ষকরাও এমনটিই চেয়েছিলেন। কিন্তু এমন ফলাফলে যেখানে সবার আনন্দিত হওয়ার কথা, সেখানে বিষাদ জেঁকে বসেছে। চোখের জল সংবরণ করার সাধ্য নেই কারও। কারণ এসএসসির এ ফল প্রকাশের মাত্র ২৩ দিন আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে এ পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছে বৃষ্টি।
বৃষ্টির এ চলে যাওয়ায় তার মা-বাবাসহ আত্মীয়-স্বজন যেন শোক সাগরে নিমজ্জিত।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকার কেশবপুর গ্রামের বুদা মণ্ডলের মেয়ে বৃষ্টি মণ্ডল। আক্কেলপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল।
এসএসসি পরীক্ষার ফল বেরলো। পাসও করলো, অথচ এর কোনো কিছুই দেখতে পারলো না। পাসের আনন্দ ভাগ করতে পারলো না স্বজনদের সঙ্গে। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে বৃষ্টি চলে গেলো না ফেরার দেশে। তার এ অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে সেদিন থেকে কষ্টের আগুনে পুড়ছে পরিবারটি। সে কষ্টের আগুন যেন অনেকটা বেড়ে গেছে বৃহস্পতিবার এসএসসির ফল প্রকাশের পর!
বৃষ্টির চাচা ডা. কায়েম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, “অনেক আদর যত্নে ভাতিজিকে মানুষ করেছি। বাবা মায়ের ওপর রাগ করে আত্মহত্যা করলে যেমন কষ্ট পেয়েছি, তার রেজাল্টেও অনুরুপ কষ্ট ভোগ করছি।”
আক্কেলপুর বালিকা বিদ্যালযের শিক্ষক আব্দুর রহিম স্বাধীন জানান, মেয়েটি লেখাপড়ায় ভালো ছিল, তার মৃত্যুর পর ফলাফলে শিক্ষক শিক্ষিকাসহ সব ছাত্রী মর্মাহত।

No comments:
Post a Comment