Thursday, May 9, 2013

‘জেএসসি-জেডিসির অভিজ্ঞতায় এসএসসিতে ভাল ফল’


ঢাকা: জেএসসি এবং জেডিসি পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ভাল ফল করেছে বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেক বিপদজনক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন।

দুই বছর আগে প্রথমবারের মতো জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়।

বৃহস্পতিবার আটটি সাধারণ এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে গড় পাসের হার ৮৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১ হাজার ২২৬ শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার ৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ বেড়েছে ৯ হাজার।

প্রকাশিত ফলাফলের অভাবনীয় দিক তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মাধ্যমিকের পরীক্ষার এই ফলের মধ্যে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার অভিজ্ঞতার প্রতিফল ঘটেছে। গুণ ও মানের দিক থেকে এবার শিক্ষার্থীরা পূর্বের তুলনায় ভাল ফল করেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় আমরা মানসম্পন্ন ভাল ফলাফলের দিকে যাচ্ছি।”

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মধ্যে হরতালের কারণে ৫ দিনে ৩৭টি পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “হরতালের কারণে শিক্ষার্থীরা হতাশা এবং মানসিক চাপের মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে। এতে তাদের ক্ষতি হয়েছে। সঠিক সময়ে শেষ করতে পরীক্ষা পিছিয়ে ছুটির দিনে গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সঠিক সময়ে ফল দিতে শিক্ষকরা রাত-দিন পরিশ্রম করে খাতা দেখা শেষ করেছে। খুবই বিপদজনক পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের ফলাফল দিতে হয়েছে।”

এবার ২১টি বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীদের জানার সুযোগ বৃদ্ধি করতে ৫ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল পাঠদান করতে পারেন। এতে শিক্ষার্থীদের নোট বই পড়া ও নকল করে পাস করা অতীত হয়ে গেছে।”

১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়াসহ সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা ভাল ফল করেছে বলেও এ সময় দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী।

‘বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ার আগ্রহ কম ছিল, তাই আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম’ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর পড়াশোনার জন্য মোবাইল ল্যাবরেটরি, আকর্ষণীয় বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ এবং শিক্ষকদের বিদেশে প্রশিক্ষণের ফলে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা সব দিক থেকে ভাল ফল করেছে।”

আগে ইংরেজি ও গণিতে বেশি ফেল করত উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “৪৫ হাজার স্কুলকে আলাদা করে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হয়েছে। এতে ফলাফলে ও গুণগতমানে উন্নত হয়েছে।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যেমন এই বোর্ডের ফল আগের থেকে ভাল হয়েছে, তেমনি কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ায় ছয়গুণ শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনটি নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে কারিগরির শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।”

নম্বর বেশি দেওয়ায় পাসের হার বাড়ছে কিনা-জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এই অভিযোগ মোটেই সঠিক নয়। বরং আজকের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি পড়ে-জানে। আগামীতে আমাদের ছেলে-মেয়েদের বিশ্বমানের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চাই।”

এসএসসির ফলের দিনেও হরতাল আহ্বানকারীদের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী ভবিষ্যত প্রজন্মকে বিপদের মধ্যে না ফেলার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুনসহ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment