Sunday, May 19, 2013

খালেদা জিয়া নির্বাচনে আসবেন এবং পরাজিত হবেন: তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা: বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা পোষণ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
তিনি বলেছেন, “মহাজোট সরকার হচ্ছে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। মহাজোট সরকারের শরিক দলের বেশির ভাগ দীর্ঘ দিনের পোড় খাওয়া রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা সব সময় সদর দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাই। আমরা ওই নির্বাচন চাই, যে নির্বাচনে বেগম জিয়া আসবেন এবং তিনি পরাজিত হবেন।”

রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার কোনো গতানুগতিক সরকার নয়। বর্তমান সরকার দিন বদলের সরকার। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দ্বার উন্মোচনের সরকার। নারী ও দুস্থ্যবান্ধব সরকার।”

বিরোধী দল ষড়যন্ত্র না করলে বর্তমান সরকারের সময়ে আরও উন্নয়ন হতো দাবি করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বেগম জিয়া যদি সংগ্রামের নামে অন্তর্ঘাতমূলক রাজনীতি না করতেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে তাদের সশস্ত্র তাণ্ডবে সমর্থন না দিতেন তবে আরও উন্নয়ন সম্ভব ছিল।” 

তথ্যমন্ত্রী আবারও খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানান।

অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রানা প্লাজায় হতাহতদের উদ্ধার ও তাদের চিকিৎসা এবং নিহতদের ক্ষতিপূরণের জন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি গত ৫ মে হেফাজতে ইসরামের নাশকতা ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষা করাও সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।  

তথ্যমন্ত্রী মহাজোট সরকারের চার বছরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরে বলেন, “বিশ্বমন্দা ও অতীতের ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন সরকারের ভূল পদক্ষেপের ফলে অর্থনীতি-প্রশাসন-সামাজিক জীবনে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় প্রবৃদ্ধি ৫ এর নিচে ও মূল্যস্ফীতি ১০ এর কাছে ছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে বর্তমানে প্রবৃদ্ধি ৬ এর ওপরে এবং মূল্যস্ফীতি দশের নিচে নামিয়ে এনে অর্থনীতিতে স্থিতাবস্থা রাখতে সক্ষম হয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “অতীতের সামরিক-সাম্প্রদায়িকতার চিহ্ন থেকে উত্তোরণ ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক দায়িত্ব আমাদের ওপর পড়েছে। পাশাপাশি অমার্জনীয় অপরাধে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দায়িত্ব আমাদের জনগণ দিয়েছে।” 

তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতা গ্রহণের সময় মোবাইলের গ্রাহক চার কোটি হলেও বর্তমানে তা নয় কোটিতে পৌঁছেছে। আর তিন কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।”

তথমন্ত্রী বলেন, “চার বছরে ১৭ লাখের ‍ওপরে শ্রমশক্তি রপ্তানি করা হয়েছে। শেখ হাসিনার শান্তি মডেল বিশ্ব গ্রহণ করেছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অধিকাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার যথেষ্ট অগ্রগতি লাভ করেছে।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকারের সময়ে গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেছে। সাম্প্রদিক সময়ে কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া এবং শনিবার ১৫ জন সম্পাদকের বিবৃতি প্রদানের বিষয়ে সোমবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য সচিব মরতুজা আহমেদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তাছির আহমেদ, আপন কমিউনিকেশনসের প্রধান নির্বাহী রুহুল আমিন ভূইয়া আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment