Thursday, May 9, 2013

ভুলের চেয়েও ভোগান্তিকে দায়ি করছেন লিপু


ঢাকা: ক্রিকেট বিশ্বে একটা বার্তা দিতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশের চেয়ে তারা এখন ভালো দল। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ জয়ে জিম্বাবুয়ের উত্থান। ২০১২ সালে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং সর্বশেষ টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজের সাফল্য পুরনো দিনের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রথম ধাক্কাটা খায় ২০১১ সালে। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে একমাত্র টেস্টে হেরে। একই মাঠে টানা তিন ওয়ানডে জিতে সফরকারী ক্রিকেটারদের লজ্জায় ফেলে দেয় স্বাগতিক দল। পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতে নেয় তারা। বুলাওয়ে কুইন্স পার্ক মাঠে শেষ দুটো ওয়ানডে জিতে মান বাঁচিয়েছিল সাকিব আল হাসানের দল।

২০১২ সালে দক্ষিণ আফিকা এবং বাংলাদেশকে নিয়ে আনঅফিসিয়াল টি-টোয়েন্টি সিরিজের আয়োজন করে জিম্বাবুয়ে। ডাবল লিগের ওই টুর্নামেন্টে জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথম ম্যাচটা হেরে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতেও ফাইনাল খেলতে পারেনি।

২০১৩ সালে সদ্যই যে ঘটনা ঘটেছে তার ক্ষত এখনও দগদগে। ক্রিকেটাররা ভুলতে পারছেনই না। দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাকি রয়েছে। ২০ ওভারের ম্যাচেও অঘটনের শিকার হলে লজ্জায় ডুবতে হবে ক্রিকেটারদের। আপাত দৃষ্টিতে জিম্বাবুয়েকে এগিয়ে রাখাটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোন থেকে অনেক ব্যাখ্যা হতে পারে। গাজী আশরাফ হোসেন লিপু যুক্তি দিয়ে বাংলাদেশ দলের পরাজয়ের ব্যবচ্ছেদ করলেন বাংলানিউজের কাছে,‘প্রথমত; টেস্টের আগে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা খুব দরকার ছিল, যেটা হয়নি। বাংলাদেশের জন্য একটা সুস্থ পরিবেশ করে দেওয়া উচিৎ ছিল জিম্বাবুয়ের। ভালো মাঠে প্র্যাকটিস ম্যাচ, থাকার সুবন্দোবস্ত ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা যা অনুপস্থিত দেখতে পেয়েছি।’

‘টেস্ট খেলা হয়েছে সিমিং কন্ডিশনে। এমন নয় যে এক ইনিংসে সিম বোলাররা সুবিধা পেয়েছেন, পরের ইনিংসে স্পিনাররা। আগাগোড়া পেস বোলারদের প্রধান্য লক্ষ করেছি। এছাড়া লম্বা ইনিংস খেলতে পারেনি, যেটা করতে পেরেছে শ্রীলঙ্কায়। ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি এবং ডাবল সেঞ্চুরিও হয়েছে। এধরনের লম্বা ইনিংস না হলে জুটিও হয় না। হারারের প্রথম টেস্টে আমরা এটা করতে পারিনি। যেজন্য চারদিনে টেস্ট শেষ, হেরেছি ৩৩৫ রানের পরাজয়ে।’

প্রথম টেস্ট হারলেও দ্বিতীয় টেস্ট জিতে ১-১ ম্যাচে সিরিজ শেষ করে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ শুরু হয়েছিল জয়ে। দুর্দান্ত শুরুর পরও শেষ দুই ম্যাচে হেরে যায় সফরকারী দল। বুলাওয়ের কন্ডিশনে হারের ব্যাখ্যা দিলেন লিপু,‘ওয়ানডে সিরিজ হারের পেছনে উইকটের বড় ভূমিকা ছিল। প্রথম ইনিংসে ৪০ ওভারের পর থেকে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো হয়ে গেছে, যেটা আব্দুর রাজ্জাক এবং মাহমুদ উল্লাহ’র ব্যাটিংয়ে প্রমাণিত। এক্ষেত্রে যেটা করা যেত একটু ধরে খেলা, বাউন্ডারি লাইনে যখন বল পাঠানো যাচ্ছিল না তখন সিঙ্গেলসের ওপর জোর দেওয়া এবং জুটি ধরে রাখতে পারতো। তামিমের মতো ব্যাটসম্যানও শট খেলতে পারেনি। তার মানে উইকেটে কিছু ছিল, যেটা কাজে লাগিয়েছে জিম্বাবুয়ে। এছাড়াও মুশিফিকের দুর্ভাগ্য, সে একদিনও টস জিতে পারেনি। শেষ দুই ম্যাচের একটিতে হলেও জিম্বাবুয়েকে আগে ব্যাট করাতে পারলে দুই দলের পার্থক্যটা পরিষ্কার বোঝা যেত।’

‘আমার মনে হয় কিছু সিদ্ধান্ত অন্যভাবেও নেওয়া যেত। বুধবারের শেষ ম্যাচে শামসুর রহমানকে খেলাতে পারতো। এখানে জহুরুলকে নামানো ঠিক মনে হয়নি। পুরো সিরিজে বিজয়ের (এনামুল হক বিজয়) অনুপস্থিতি ভালোই বোঝা গেছে। এজন্য কিছুটা সাফার করতে হয়েছে তামিমকেও। তারপরেও ‘এগেনস্ট দ্যা ক্যারেকটা’র খেলতে হলে কি করা উচিৎ সেটা কোচই ভালো বুঝবেন। সেভাবে তিনি ছেলেদের নির্দেশ দিয়েছেন কিনা জানি না।’

আম্পায়ারিংয়ের বিষয়টিও সামনে এনেছেন লিপু,‘আমরা কাছে মনে হয়েছে আম্পায়ারিংয়ের মান খুবই দুর্বল ছিল। অনেক সিদ্ধান্ত আমাদের বিপরীতে গেছে। যা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন। এই পর্যায়ের আম্পায়ারদের কাছ থেকে এটা আশা করি না। এবার আম্পায়ারিং আমাদের খুব ভুগিয়েছে।’

এতকিছুর পরও কোথাও দুর্বলতার কথা লেখা থাকবে না। জিম্বাবুয়ের কাছে বাংলাদেশ হেরেছে এটাই সত্য। এনিয়ে সমালোচনাও হতে পারে বিস্তর।

No comments:

Post a Comment