Sunday, May 19, 2013

জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনের কর্মসূচি

 

ঢাকা: জিয়াউর রহমানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী নানা  কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ৩০ মে, ১ ও ২ জুন কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।


রোববার দুপুর ১২টায় বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কর্মসূচির কথা জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু।

দুদু বলেন,  “দরিদ্রদের মাঝে খালেদা জিয়া নিজে খাবার বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।”

তিনি বলেন, “মৃত্যুবার্ষিকীর ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-  ৩০ মে সকালে জিয়াউর রহমানের মাজারে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পমাল্য অর্পন করবেন।  এছাড়া ওইদিন জিয়াউর রহমানের মাজারে জাতীয়বাদী ওলামা দল কোরআন খানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করবে।”

এছাড়া শিশু কিশোরদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও ঢাকার ৮টি নির্বাচনি এলাকায় আলোচনা সভা করবে বিএনপি ও এর সংযোগী সংগঠনগুলো।

দুদু বলেন, “বাংলাদেশে ভয়াবহ অরাজকতার সৃষ্টি করা হয়েছে। হত্যা ঘুম, খুন নির্যাতন নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু দেশে কাজ নেই। সাধারণ মানুষের শক্তি নেই। সরকারের ওপর মানুষের কোনো বিশ্বাস নেন । দেশ আজ মহাসংকটে। সভা-সমাবেশ মিছিল মিটিং বন্ধ করে সরকার গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছেন। সারাদশে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ঢুকানো হচ্ছে। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।”

এই মহাসঙ্কটময় মুহূর্তেও জিয়াউর রহমানের সাহাদাত বার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছি আমরা।

তিনি বলেন, “সরকার শুধু সমাবেশ বন্ধ করেই খ্যান্ত হননি। বিএনপির কার্যালয়টি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বাধায় দলটির কার্যালয়ে কেউ আসতে পারছে না, এমনকি কার্যালয় থেকে যেতেও পারছে না। এ যেন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। বর্তমান সরকার ১৯৭৪ সালকেও হার মানিয়েছে। তারা একজন সংসদ সদস্যকে সংসদ চলাকালে সময়ে আটক করে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি জেলে রেখেছে, যেখানে রাখা হয় খুনিদের।”

প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “নির্যাতন বন্ধ করুন। পাকিস্তান ও  আপনার বাবার শাসনামলে দমন নীতি চালিয়ে সাধারণ জনগণকে ধমিয়ে রাখতে পারেন নি। দমননীতি চালালে জাতীয়তাবাদী শক্তি তা মেনে নেবে না।”

দুদু বলেন, “সরকার বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। কিন্তু ১৮ দল সভা-সমাবেশ করছে। এটা কি মগের মুল্লুক?”

এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসান হওয়ার দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মশিউর রহমান, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, ‍যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সালাম, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, জসাস সভাপতি আব্দুল মালেক, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান প্রমুখ। 

No comments:

Post a Comment