বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): এতদিন জমিতে কেউ কামলা খাটতেন, কাজ করতেন অন্যের বাড়িতে। আজ তারাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খামারি। বুনেছেন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।
আর এসব সম্ভব হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের সুদমুক্ত ঋণ সহায়তায়। এমনটাই জানালেন বাঞ্ছারামপুরের আসমা, রেনুসহ বেশ কয়েকজন হতদরিদ্র ঘুরে দাঁড়ানো নারী।
তারা প্রায় সবাই সরকারি খাতায় হতদরিদ্রের তালিকায় ছিলেন। কোনো ব্যাংক কিংবা সংস্থা এদের ঋণ দিত না। যে কারণে বিপদে পড়লেই তারা দারস্থ হতেন দাদন ব্যবসায়ীদের। আর সুযোগ বুঝে দাদন ব্যবসায়ীরাও তাদের পথে বসিয়ে ছাড়ত। দাদনের বেড়া জালে এখনও অনেকে এলাকাছাড়া।
২০০৫ সাল পর্যন্ত বাঞ্ছারামপুরের বাস্তবতা ছিল এমনটাই। ওই বছরের মাঝামাঝি সময়ে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন সুদ ও সার্ভিসচার্জ মুক্ত ঋণ চালু করলে বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট।
সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে চলছে এই কর্মসূচি। দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে কলেবর। সচ্ছল, সাবলম্বী হয়েছে মানুষ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সম্পন্ন হলো ২৯তম ঋণ প্রদান অনুষ্ঠান। এদিন চারশ’ ৪৯জন হতদরিদ্র নারীকে ৩০ লাখ ৭২ হাজার ৫০০টাকা ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়।
ঋণের টাকা তুলতে এসে নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন তারা। আসাদনগর গ্রামের আসমা আক্তার বলেন, “আমি আগে দু’বার খাইতাম পারতাম না। বসুন্ধরার টেহায় দোহান দিয়া খাওনের চিন্তা সাইরা গেছে।”
খোশকান্দি গ্রামের রেনু বেগম জানান, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন থেকে ২০০৯ সালে প্রথম ঋণ নেন। প্রথমে কিনেছিলেন একটি বাছুর। কয়েক বছরে রেনু বেগম পুরো খামারিতে পরিণত হয়েছেন। এখন বিক্রির পরও তার খামারে রয়েছে ৩টি গুরু।
আসমা ও রেনু বেগমের মতো শত শত পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে, যাদের মধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছে। কেউ, বাড়িতে দর্জির কাজ করে, কেউ বাঁশ ও মাটির তৈজসপত্র তৈরি করে ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা।
২৯তম ঋণ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা (ট্রেজারার) ময়নাল হোসেন চৌধুরী। অতিথি ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক যুগ্ম সচিব সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ আউয়াল, বসুন্ধরা গ্রুপের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মাইমুন কবীর, বাঞ্ছারামপুর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ বাবু, বাঞ্ছারামপুর ইসলামীয়া সুবহানিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমীন, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
ময়নাল হোসেন চৌধুরী ঋণগ্রহীতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এ ঋণের টাকা কোনোভাবেই অসৎ খাতে ব্যবহার করা যাবে না। মাদকের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাকে এ সুবিধা দেওয়া হয় না।”
এসময় ঋণগ্রহীতাদের মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ২০০৫ সালে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ফাউন্ডেশন পশু পালন, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ ৩৩টি খাতে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সুদমুক্ত ঋণ সহায়তা দিয়ে আসছে।
বর্তমানে উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের ১১৮টি গ্রামের মধ্যে ৭২টি গ্রামে এ ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সম্পন্ন করেছে সাত হাজার একশ’ ৬৭ পরিবারকে চার কোটি ৩৪লাখ টাকা ঋণ বিতরণ।
বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন এ ঋণ দেওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন মাসে কোনো কিস্তি আদায় করে না। তিন মাস পর থেকে ৫০টি সমান সাপ্তাহিক কিস্তিতে আদায় করা হয়। ঋণ পরিশোধ সাপেক্ষে আবার সুযোগ দেওয়া হয় ঋণ নেওয়ার। এছাড়া ঋণ দেওয়ার সময় কোনো রকম জামানতও নেওয়া হয় না।

No comments:
Post a Comment