Sunday, May 19, 2013

নির্বাচনী সংলাপ নেই ৪ সিটি করপোরেশনে

 
ঢাকার বাইরে চার সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়রপ্রার্থীদের নিয়ে সংলাপ আয়োজন করছে না নির্বাচন কমিশন।নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ জানান, পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় নির্বাচনের এক মাস আগেও মেয়রপ্রার্থীদের মঞ্চে এনে ভোটারের মুখোমুখি করার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া যায়নি।আগামী ১৫ জুন একযোগে খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে। ২৬ মে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়। ইতোমধ্যে চার সিটি করপোরেশনে ২৪ জন মেয়রপ্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছে।
২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো এ চার সিটি করপোরেশনে মেয়রপ্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী সংলাপের আয়োজন করে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।
এবারের সংলাপের সম্ভাব্যতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নির্বাচনের এখনো মাস খানেক বাকি। এর মধ্যে নির্বাচনী সংলাপ করতে পারলে ভালো হয়। ইসির উদ্যোগে এ ধরনের সংলাপ করবো না। তবে বেসরকারি কোনো সংস্থা এগিয়ে এলে বা স্পন্সর পেলে প্রার্থীদের বিতর্ক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে একযোগে এ চারটি নির্বাচন করতে গিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি ও বড় অংকের অর্থ ব্যয়ের ভাবনা থেকেই নির্বাচনী বিতর্ক আয়োজন থেকে বর্তমান কমিশন সরে এসেছে বলে জানান ইসি সচিব মোহাম্মদ সাদিক।
নির্বাচনী সংলাপ আয়োজনে ধারাবাহিকতা খুবই দরকার বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন। তাদের কমিশনের সময় চার সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে নির্বাচনী বিতর্কের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, “মানুষের প্রত্যাশা-সব প্রার্থীকে এক মঞ্চে জনগণের মুখোমুখি করা। এতে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়। ইসি উদ্যোগী হলে সরকারি তহবিলেও তা করা সম্ভব। আমরা শুরু করেছি, তা অব্যাহত থাকলে ভালো হতো।”
সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার জানান, তাদের সময় জনগনের কাছে জবাবদিহিতা ও প্রার্থীদের বিষয়ে জনগণকে অবহিত করতেই বিতর্কের পাশাপাশি হলফনামা (যাবতীয় তথ্য) প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যোগ্যপ্রার্থী বাছাইয়ে এ ধরনের উদ্যোগকে ভোটাররাই স্বাগত জানায় বেশি।
আর্থিক সংকটে বেসরকারি উদ্যোগে প্রার্থীদের বিতর্ক ও হলফনামার তথ্য প্রচার করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “হলফনামার তথ্য জনসম্মুখে প্রচারের ব্যবস্থা নেবে ইসি। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখনো অনেক এলাকায় এসব তথ্য টানিয়ে রাখে নি। তাদের অবাধ সহায়তা না থাকায় আমরাও তথ্য পাচ্ছি না। ইসিকে এ বিষয়ে আরো ততপর হতে হবে।”
 

No comments:

Post a Comment