ঢাকা: পেশাদার অপরাধী ও ক্যাডারদের কাছে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ দিন দিন বাড়ছে। ছোট, বড় ও মাঝারি ধরনের অস্ত্র আনতে ব্যবহার করা হচ্ছে দেশের ৩০টি সীমান্ত পথ। এই সীমান্ত পথ দিয়ে অস্ত্রগুলো পৌঁছুচ্ছে রাজধানীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ক্যাডারদের কাছে।
পেশাদার সন্ত্রাসী ও ক্যাডারদের কাছে এখন ৯ এমএম ও ৭ দশমিক ৬ পিস্তলটি বেশি জনপ্রিয়। পরিবহনে সুবিধার কারণে এ দু’ধরনের অস্ত্রের চাহিদা বেশি। এসব অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসীরা খুন, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করছে।
এছাড়া আসন্ন সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনে এসব অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীলরা।
শুধু গত সপ্তাহে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, ৠাব ও গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে অন্তত ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এ সসব ঘটনায় ১৫জনকে আটকও করা হয়েছে।
এছাড়া রোববার সিলেটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
এসব ব্যাপারে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি একেএম শহিদুল হক বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকে। যখন অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায় পুলিশ তখনই অভিযান পরিচালনা করে তা উদ্ধার করে। এছাড়াও অস্ত্র আসার সীমান্তপথ গুলোতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারী রয়েছে।”
ৠাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে গত সপ্তাহে একটি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন ও ৫রাউন্ড গুলিসহ রাজু (২৪), আতিকুল ইসলাম (২২) ও তৌফিক (২৩) কে আটক করেছে ৠাব।
খিলগাঁও থানা থেকে অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগজিনসহ মামুন নামের এক সন্ত্রাসীকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গেন্ডারিয়া থানাধীন সায়েদাবাদ রেল লাইনের পশ্চিম পাশে ৩৯/ডি করাতিটোলায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী শাকিল মিয়াকে (২৮) ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন ও ৮ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া ৠাবের অভিযানে রাজবাড়ীর পাংশায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ ৬ চরমপন্থীকে আটক করে ৠাব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য মতে, সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে। ৠাব, পুলিশ ও বিজিবি গত দেড় বছরে যেসব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে, তার বেশিরভাগই এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে।
২০১২ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিজিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৯টি পিস্তল উদ্ধার করেছে। এসময় আটক করা হয়েছে ১৩ জনকে। আর রাজশাহী ৠাব-৫ গত বছর ৮৫টি এবং চলতি বছর এ পর্যন্ত উদ্ধার করেছে ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র। এসব অস্ত্র বহনের সময় ৠাব আটক করেছে ৪৩ জনকে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পেশাদার অপরাধী ও ক্যাডারদের অস্ত্রের মজুদ বাড়ছে। এসব অস্ত্র দিয়েই খুন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করে আসছে তারা।
এছাড়াও আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনে এ অস্ত্রধারী ক্যাডাররা সামনে এসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সীমান্তের যে ৩০টি রুট দিয়ে বেশি অস্ত্র চোরাচালান হয় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, রাজশাহীর চারঘাট ইউসুফপুর বিজিবি ফাঁড়িসংলগ্ন পয়েন্ট, গোদাগাড়ী, হবিগঞ্জের সাতছড়ি সীমান্ত, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ঘেঁষা আনোয়ারা থানাধীন গহিরা ও আশপাশের স্থান, মহেশখালী দ্বীপের উত্তর ও পূর্ব ঘাট, সুন্দরবন ঘেঁষা দুবলার চর, সাতক্ষীরার ভোমরা ও কালিগঞ্জ পয়েন্ট, কুড়িগ্রামের রৌমারি, টেকনাফ, জৈন্তা, ছাতক, শেরপুর, মাধবপুর, আখাউড়া, পটিয়া, দিনাজপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম।
অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবেই এগুলো পরিচিত। তবে বৃহত্তর ময়মনসিংহের গারো পাহাড়সংলগ্ন সীমান্তের ৯টি পয়েন্টকে গ্রেনেড পাচারের সবচেয়ে বিপজ্জনক রুট হিসেবে চিহ্নিত।
ৠাব-১০ এর মেজর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ৠাবের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান সব সময়ই থাকে। বর্তমান সময়ে যেসব অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে ৭ দশমিক ৬৫ বেশি। এছাড়া ৯ এমএমও উদ্ধার হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “দেশের উত্তরাঞ্চলের চাঁপাই সীমান্ত দিয়েই বর্তমানে বেশি অস্ত্র আসছে। আমরা আমাদের সোর্সদের খবরের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।”
মতিঝিলের অভিযানে আটক তিনজনের মধ্যে দু’জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বলে জানান মেজর আল মামুন।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) জাহাঙ্গীর আলম মাতব্বর বলেন, “রাজধানীতে পেশাদার সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে ডিবি পুলিশ। এ অভিযানে আমরা সফল। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, “দেশের অন্য সীমান্তের চেয়ে চাঁপাই সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র আসার প্রবণতা বেশি।”

No comments:
Post a Comment