ঢাকা: সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৭তম দিন ভোর ৬টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আরও ২০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে উদ্ধার করা মরদেহের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৩৩ জনে। ঘটনাস্থলে স্থাপিত সেনাবাহিনীর কন্ট্রোলরুম থেকে শুক্রবার এসব তথ্য জানানো হয়।
উদ্ধার হওয়া মোট লাশের মধ্যে ৭১২ জনের মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাভার অধরচন্দ্র বিদ্যালয়ে রয়েছে ৬২টি লাশ। ৮৪টি লাশ রয়েছে ঢাকা মেডিকেল মর্গে। এখন পর্যন্ত বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে ১৫৬টি লাশ।
এদিকে বুধবার উদ্ধারকাজের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর জিওসি দু’একদিনের মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতির কাজ শেষ করার ঘোষণা দিলেও বৃহস্পতিবার আবার জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মৃতদেহ পাওয়া যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলবে।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, এখন যেসব লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশই গলিত, অর্ধগলিত। ফলে মরদেহ শনাক্ত ও হস্তান্তর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ড বাজারে যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধীন নয়তলা বাণিজ্যিক ভবন ‘রানা প্লাজা’ ধসে পড়ে। এতে হাজারের অধিক প্রাণহানির এই ভয়বহ ঘটনা ঘটে। এছাড়া আহত ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৪৩৭ জন শ্রমিককে।
সাভারের মর্মান্তিক এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে দেশের পোশাকশিল্প।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো পোশাকশিল্পের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে। এমনকি বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান কয়েকটি পোশাক কারখানার পরিবেশ ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
এর আগে গত নভেম্বর মাসে সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক পোশাক শ্রমিকের প্রাণহানি হয়।

No comments:
Post a Comment