ঢাকা।।আসন্ন চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিয়ম অনুযায়ীই সরাসরি দলীয় সমর্থন পাচ্ছে না বিএনপি ঘরানা প্রার্থীরা। এ সুযোগে একই সিটিতে মেয়র পদে দলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অনেকেই আবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রচারণাও চালাচ্ছেন। এ নিয়ে সিলেট ও রাজশাহী বিএনপির দ্বন্দ্ব অনেকটা প্রকাশ্য। আর এর সুযোগ নিচ্ছে ১৮ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী।
তবে দলীয় মনোনয়ন না দিলেও কৌশলে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ না করলেও দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্য থেকে একজনকেই দলীয় মনোনয়ন দিয়ে বাকিদের তার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেবে কেন্দ্রীয় সংগঠন। এ নির্দেশ না মানলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রার্থী দেয়ার বিধান না থাকলেও এর আগের নির্বাচনগুলোতে কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী এলাকায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। এমনকি দলের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোটও চেয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের নির্দেশনা রয়েছে, যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন খুব শিগগির তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে হবে। এরপরও যারা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ বা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দল।
এদিকে দলের মুখপাত্র বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু জোর দিয়ে বলছেন, সব জায়গায় বিএনপির প্রার্থী থাকবেন একজনই।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি দলীয় কোনো নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনে দল কাউকে মনোনয়ন দিবে না। তবে সমর্থন থাকতে পারে দলের পক্ষ থেকে।’
একাধিক প্রার্থী প্রচারণায় থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেকে প্রচারণা চালালেও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে একজনই প্রার্থী হবেন।’
শুক্রবার দুপুরে এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এখানে দলীয় ভাবে কোনো প্রার্থী দেয়ার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে বিএনপির পক্ষ থেকে কাউকে সমর্থন দেয়া হচ্ছে না।’
কিন্তু অনেকেই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এলাকায় প্রচরাণা চালাচ্ছেন- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেহেতু এখানে দলীয় প্রার্থী কাউকে সমর্থন দেয়া হবে না সেহেতু যে যার মতো করে প্রচারণা চালাতে পারে। দল থেকে কাউকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হবে না।’
রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল এই চার সিটি করপোরেশন এলাকাতেই রয়েছে বিএনপির একাধিক প্রার্থী। আছে ১৮ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও। এর মধ্যে রাজশাহীতে জোটের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই জামায়াত দলীয় প্রার্থী দিয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মেয়র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে ১৮ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতের রাজশাহী মহানগরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরও মেয়র প্রার্থী। এই চারজন ছাড়াও মীর মোজাম্মেল হক ও হাবিবুর রহমান নামের দুজন প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তবে তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই।
খুলনাতে মহানগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম শফিকুল আলম মনা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির জেলা শাখার সভাপতি আহসান হাবিব কামাল ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগরের সভাপতি সাংসদ মজিবর রহমান সরোয়ার। দু’জনই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন। এছাড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান শাহীন ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবাদুল হক চাঁনও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
সিলেটে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. সামসুজ্জামান ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম জালালী প্রচারণা চাচ্ছেন।
গত ২৯ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পর থেকে বিএনপির এবং ১৮ দলের শরিক জামায়াত বেশ জোরেসোরে প্রচারণা শুরু করে। চার সিটিতে যে যার মতো করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। দলের পক্ষ থেকে বারবার বলার পরও কোনো সিটিতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি স্থানীয় বিএনপি।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকবে বিএনপি। সরাসরি নয় কৌশলেই এ লড়াইয়ে নামবে দলটি।
সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল এ চার সিটি করপোরেশনের বিগত নির্বাচন হয়েছিল ওয়ান ইলেভেনের জরুরি সরকারের সময়। সেসময় নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি।
বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে কৌশলী অবস্থান নেয় বিএনপি। এ দুটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে তাদের প্রার্থী বিজয়ীও হয়।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দিলেও শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করে নেয় এবং বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে পরাজয় নিশ্চিত করেছে সরকারদলীয় শক্তিশালী প্রার্থীকে।
জানা যায়, প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক হয়। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে বৈঠক সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী, খুলনা এবং সিলেট, বরিশাল সবখানেই মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

No comments:
Post a Comment