Sunday, May 12, 2013

‘সহিংসতা দমন করা সরকারের দায়িত্ব’: মুহিত


ঢাকা: সমাবেশ ও হরতালের নামে সহিংসতা করলে সেটা প্রতিরোধ করতেই হবে। এদের ক্ষমা নেই। সহিংসতা দমন করা সরকারের দায়িত্ব।
রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ঢাকা মহানগর যুবলীগ (দক্ষিণ) আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।


হরতালের নামে সহিংসতার প্রতিবাদে দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ডে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, “আমরা হেফাজতে ইসলাম চাই না। এ হেফাজতে ইসলাম হলো বরবাদে ইসলাম।”

তিনি বলেন, “শাহবাগের জাগরণ মঞ্চ আর শাপলা চত্বরের হেফাজতের মঞ্চের মধ্যে পার্থক্য হলো- শাহবাগের মঞ্চ শান্তিপ্রিয় আর হেফাজতের মঞ্চ সহিংস। প্রতিবাদ সহিংস হলে সেই প্রতিবাদের পাত্তা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সেই প্রতিবাদ দমন করা আমাদের দায়িত্ব।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “হরতাল করার, সমাবেশ করার সুযোগ দেবো। কিন্তু হরতাল সমাবেশের নামে বাস পোড়ালে, সহিংসতা করলে, গুপ্ত হত্যা করলে তাকে প্রতিরোধ করতেই হবে। জামায়াত এগুলো করে। এদের প্রতিরোধ করতেই হবে। এদের ক্ষমা নেই।”

যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য আন্দোলনের নামে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “তাদের এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিরোধী দলের নেত্রী। তিনি জামায়াতের আমির হয়ে গেছেন। বিএনপিতে মুক্তবুদ্ধি সম্পন্ন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যারা আছেন তাদের বলবো এখন সময় হয়েছে এই বিকৃত নেতৃত্বকে বিদায় দিতে।”

সমাবেশে তিনি যুবলীগকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সন্ত্রাস দিয়ে সন্ত্রাস দমন করা যায় না। শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতিরোধে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।”

এ সময় তিনি যুবকদের চাঁদাবাজির পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “চাঁদাবাজির রাস্তা থেকে সরে আসুন। প্রয়োজনে নিজেদের টাকা দিয়ে সংগঠন পরিচালনা করুন। আমার উপদেশ ভালো না লাগলে বয়সের গুণে ক্ষমা করে দেবেন।”

প্রতিবাদ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, “যারা ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে মানুষ হত্যা করছে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, যুব লীগ তাদের রুখে দাঁড়ালে পালাবার পথ পাবে না।”

তিনি হেফাজতের ১৩ দফা সম্পর্কে বলেন, “১৩ দফা মানুষ মানে না। ১৩ দফা মধ্যযুগে নিয়ে যায়। হেফাজতের সমাবেশ থেকে বলা হচ্ছিলো তারা শাহাদাৎ বরণ করতে এসেছে। কিন্তু তারা শাহাদাৎবরণ করেনি। ১০ মিনিটের মধ্যে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে।”

রাশেদ খান মেনন বিরোধীদলের নেতা খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সারা দিয়ে সংলাপে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কত ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলো। আপনি আপনার ৪৮ ঘণ্টার জবাব পেয়েছেন।”

যুব লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধূরী সম্রাটের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহনগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুব লীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুণ অর রশিদ প্রমুখ।

এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে থানা, ওয়ার্ড যুব লীগের নেতাকর্মীরা হরতাল বিরোধী মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়।

No comments:

Post a Comment