Friday, May 10, 2013

ভবন ধস: বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দায়ীদের বিচার দাবি


ঢাকা: রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেছেন, “৪২ বছরের দুষ্টু রাজনীতির কারণে রানা প্লাজা ধসে পড়েছে। যতদিন নোংরা রাজনীতি বন্ধ করতে না পারবো, ততদিন এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।” এছাড়া বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এমন ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের দ্রুত বিচার করার দাবি জানান তারা। শুত্রুবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে গামেন্টস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত ‘সাভার ট্র্যাডেজি: আইন ও সবোচ্চ শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে অংশ নেন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার, অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “দেশের রাজনীতি এখন দুষ্ট ব্যবসায়ী-চক্রের জালে বন্দি। আমি যতদূর জানি তিন ডজন সংসদ সদস্য তৈরি পোশাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাই আজকে প্রশ্ন উঠেছে কারা এই রানার বিচার করবে?”

তিনি আরো বলেন, “দেশের আইনপ্রণেতারা হাজার হাজার রানা তৈরি করছেন। এটা বন্ধ করতে না পারলে বার বার এসব ঘটবে। মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন না করার পর্যন্ত এসব ঘটনা কমানো সম্ভন না।”

“ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে একজন মানুষের সারা জীবনের রোজগার বিবেচনায় রেখে টাকা বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।”

আসিফ নজরুল বলেছেন, “রানাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। রানার ফাঁসি হবে না, এটা জেনেও আমি এ দাবি করছি। কারণ তার মতো একজন হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে।”

তিনি বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে চাই, কিছু দিনের ভেতর রানা বের হয়ে আসবেন। একটা সময় আসবে যখন এ ঘটনার দিকে নজর দেওয়ার আমাদের সময় থাকবে না।”

তিনি বলেন, “সোহেল রানার মতো মানুষরূপী দানব শুধু আওয়ামী লীগে নয়,  বিএনপি ও জামায়াতের ঘরেও আছে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে।”

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “গত ৪২ বছরের নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছে এসব শ্রমিক। যতদিন এ নোংরা রাজনীতি বন্ধ করতে না পারবো ততদিন এসব ঘটনা ঘটতে থাকবে।”

“রানার অতীত দেখলে বোঝা যাবে, যে জায়গায় এই ভবনটি সেটি তার বাবা বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে নিয়েছিলেন। এজন্য বিএনপিও এর দায় এড়াতে পারে না।”

ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই দাবি যে শুধু মালিকদের কাছে নয়, সরকারের কাছে করতে হবে। এজন্য আইন সংশোধন করতে হবে।”

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনার এখনই সোচ্চার হন, তা না হলে আপনাদের এসব দাবি এক মাস বা দুই মাস পর হিমাগারে চলে যাবে।”

No comments:

Post a Comment