ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের তান্ডবের আগেই পিরোজপুরে গত আট ঘন্টা থেকে দমকা হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। প্রতি মূহুর্তে বাতাসের গতিবেগ বেড়েই চলেছে। বৃষ্টির কারনে জেলা শহরসহ নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।বুধবার রাত থেকে জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে।
জেলার উপকূলীয় অঞ্চল মঠবাড়িয়া,ভান্ডারিয়া ও জিয়ানগর উপজেলার ১৬১টি আশ্রয় কেন্দ্রে এ পর্যন্ত প্রায় ৮২ হাজার মানুষ ঘর বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন। মাঝের চরে দুইটি সাইক্লোন শেল্টারে পর্যাপ্ত যায়গা না থাকায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭৭ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তৈরী রাখা হয়েছে ২০৩৩ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবককে। মঠবাড়িয়া উপজেলায় খেতাচিরা, কচুবাড়িয়া, ভোলামারা ও সাপলেজা ইউনিয়ন এবং ভান্ডরিয়া উপজেলার জুনিয়া ও তেলিখালি ইউনিয়ন অতি বৃষ্টির কারনে দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন। বিভিন্ন চর ও আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষজনের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বিগ্ন ও আতংক। এছাড়া নদী ও সাগর থেকে জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ট্রলার নিয়ে জেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে আশ্রয় নিয়েছে। চর, নিম্নাঞ্চল ও আশ্রায়ন প্রকল্পের অনেক বাসিন্দারাই নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে আসতে চাচ্ছেন না। তারা জানিয়েছে তাদের মালামাল, গরু-ছাগল, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থজনদের কথা ভেবেই আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছেন না। জেলার সকল স্কুল কলেজ ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment