ডেস্ক রির্পোট:
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার
বঙ্গোপসাগর এবং বরগুনা, ভোলা ও
পটুয়াখালীর উপকূলবর্তী এলাকায় বৃহস্পতিবার ঘূর্ণিঝড়
মহাসেনের আঘাতে
৩৩জনের মুত্যু হয়েছে।তবে মুত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার
সন্ধ্যা ৭টা
পর্যন্ত এসব
মৃতদেহ সাগরে
ভেসে আসে
বলে জানিয়েছেন
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল
আকতার।তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের
বিভিন্ন পয়েন্ট
দিয়ে কয়েকটি
মৃতদেহ ভাসতে
দেখে স্থানীয়রা
পুলিশে খবর
দেয়। ঘটনাস্থলে
গিয়ে ১৯টি
লাশ উদ্ধার
করা হয়েছে।
এর মধ্যে
১১টি শিশু,
৫ জন
নারী এবং
৩ জন
পুরুষের লাশ
রয়েছে। এরপর
রাতে আরও
তিনজনের লাশ
উদ্ধার করা
হয়েছে বলে
বাবুল আকতার
জানান।
এসব মৃতদেহ থেকে
মায়ানমারের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে
এসব লাশ
মিয়ানমারের নাগরিক বলে দাবি করেন
পুলিশের এই
কর্মকর্তা।এএসপি বাবুল আকতার বলেন, “ঘূর্ণিঝড়
মহাসেনের কবলে
নৌকা ডুবির
ঘটনায় মায়ানমারের
দুই’শ
জন রোহিঙ্গা
নিহত হয়েছেন।
এসব মৃতদেহ
তাদের একটি
অংশ হতে
পারে।”এদিকে
স্থানীয়রা জানিয়েছেন বঙ্গোপসাগরের টেকনাফ পয়েন্টে
আরো মৃতদেহ
দেখা গেছে।
লাশের সংখ্যা
আরও বাড়তে
পারে তারা
জানান।
অপরদিকে
বরগুনা, ভোলা ও পটুয়াখালীর
উপকূলবর্তী এলাকায় বৃহস্পতিবার ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের
আঘাতে ১১
জন নিহত
হয়েছেন। এর
মধ্যে বরগুনা
জেলায় ৬
জন, ভোলায়
৩ জন
ও পটুয়াখালীতে
২ জন
এবং নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আবহাওয়া ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলায় আঘাতের পর মহাসেন এগিয়ে যায় কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের দিকে।বরগুনায় নিহতরা হলেন-বরগুনায় জেলার বেতাগী উপজেলার রানীপুর গ্রামের সৈয়দ আলী (৭০), একই উপজেলার বকুলতলী গ্রামের শিশু আবির (৬), তালতলী উপজেলার ছোট আমখোলা গ্রামের চানমিয়া(৬৫), বামনা উপজেলার জয়নগর গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৬০), শফিপুর গ্রামের মো. মোশারফ (৫৭) ও লক্ষীপুরা গ্রামের নাদিরা আক্তার ঝুমুর (২৬)।নিহত ঝুমুর ৭ মাসের অন্তসত্বা ছিল।
বরগুনা জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে থাকা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস আরও জানান, জেলার ৬টি উপজেলায় ৪২টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সহস্রাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছ-পালা।ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।পটুয়াখালীতে নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার আওলিয়াপুর ইউনিয়নের বলাইকাঠি গ্রামের মো. সিরাজ আকন্দ (৬০) ও গলাচিপা উপজেলার ৯নং ওয়ার্ড মোছা. রিজিয়া পারভীন (৫০)।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মো. সিরাজ আকন্দ ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সাইক্লোন সেল্টার সেন্টারে যাওয়ার পথে ঝড়ের তাণ্ডবে রাস্তার পাশে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আওলিয়াপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম সিরাজ আকন্দের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে গলাচিপার ৯ নং ওয়ার্ডের বনানী কলেজ রোড এলাকার মৃত জব্বার পেয়াদার স্ত্রী মোছা. রিজিয়া পারভীন গাছ চাপা পড়ে মারা যান। গলাচিপা থানার ওসি জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভোলায় নিহতরা হলেন- কাশেম (৬৫) ও পারভেজ পাল (৫), রফিকুল ইসলা,(৬৫)। কাশেমের বাড়ি সদর উপজেলার ধলিগৌর এলাকায়। উপজেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কাশেমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিহত শিশু পারভেজ পাল চরফ্যাশন উপজেলার দুই নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা আলমগীরের ছেলে। ভোলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রফিকুল ইসলাম চরফ্যাশনের ঢালচর ইউনিয়নের ঢালচর গ্রামের বাসিন্দা।ভোলার জেলা প্রশাসক রফিকুলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভোলার জেলা প্রশাসক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জেলা আংশিক ও সম্পূর্ণ মিলে ১৪ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুযোর্গ পরবর্তী ত্রাণ হিসেবে জেলায় ৫০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

No comments:
Post a Comment