কুড়িগ্রাম: নারায়ণগঞ্জে হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সদস্য লাভলু হোসাইনের (২১) লাশ বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী নিজ গ্রামে জানাযা শেষে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে রওনা দিয়ে বিজিবি সদস্যরা তার লাশ বেলা ১২টার দিকে গ্রামের বাড়ি জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালঝোড় গ্রামে নিয়ে আসেন।
হেলিকপ্টার থেকে মরদেহ নামানোর সঙ্গে সঙ্গে এলাকার শোকাচ্ছন্ন মানুষ শেষবারের মতো লাশ একনজর দেখার জন্য ভিড় জমায়।
এ সময় শুধু নিজ দেশেরই নয়, বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে কাঁটাতাঁরের বেড়ার ওপারে শত শত ভারতীয় নারী-পুরুষ ভিড় জমান।
লাশ দাফনের সময় কুড়িগ্রাম বিজিবির ব্যাটালিয়ান কমান্ডার লে. কর্ণেল জিয়াউল হক খালেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এজেএম এরশাদ আহসান হাবিব, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান, দিয়াডাঙ্গা বিজিবির কো. কমান্ডার মকবুল হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মাস্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী চৌধুরী ও ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বাড়িতে লাশ পৌঁছার সঙ্গেই লাভলুর বাবা আব্দুস সোবহান, ভাই-বোন ও গ্রামবাসী জড়ো হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কান্নাজড়িত কন্ঠে আব্দুস সোবহান জানান, মাতৃহারা ছেলেকে অনেক কষ্টে বড় করেছেন। সংসারের অভাব দুর করার আশা নিয়ে সে বিজিবিতে চাকরি নেয়। যারা তার সন্তানকে হত্যা করেছে তিনি তাদের শাস্তি দাবি করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত লাভলু হোসাইন ছয় ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ । ২০১১ সালে বিজিবির সৈনিক পদে যোগ দেন তিনি। বাবা কৃষি কাজ করেন। মা মারা গেছেন অনেক আগেই। তার অন্য দুই ভাইয়ের একজন আনসার ব্যাটালিয়নে এবং অপরজন ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন।
উল্লেখ্য, সোমবার নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে হেফাজত কর্মীদের অতর্কিত আক্রমণে লাভলু হোসাইন গুরুতর আহত হন এবং পরে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।

No comments:
Post a Comment