ঢাকা: সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বুধবার ভোর ৬টা থেকে বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত ৩৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ভবন ধসের ১৫তম দিনে উদ্ধার করা মৃতদেহের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯৪ জনে।
এর মধ্যে ৬০৫ জনের মৃতদেহ শনাক্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে স্থাপিত সেনাবাহিনীর কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে ৬৩টি লাশ। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়েছে ৭৯টি। অধরচন্দ্র মাঠে রাখা হয়েছে ২২টি মৃতদেহ।
এদিকে এর আগে অধরচন্দ্র মাঠে রাখা ৪৪টি লাশ নিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে যান। এছাড়া জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দু’টি গাড়িতে করে নিখোঁজদের স্বজনদের ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢামেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সঙ্গে পূর্বেই সেখানে রাখা ৬৩ লাশের মধ্যেও তারা তাদের স্বজনদের খুঁজে দেখবেন।
এর আগে মঙ্গলবার ভোর থেকে বুধবার ভোর ৬টার আগে পর্যন্ত ৭০টি লাশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, এখন যেসব লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশই গলিত, অর্ধগলিত। ফলে লাশ শনাক্ত ও হস্তান্তর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ড বাজারে যুবলীগ নেতা সোহেল রানার মালিকানাধীন নয়তলা বাণিজ্যিক ভবন ‘রানা প্লাজা’ ধসে পড়ে। এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এছাড়া আহত ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৪৩৭ জন শ্রমিককে।
সাভারের মর্মান্তিক এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে দেশের পোশাকশিল্প। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সমালোচনায় মুখর হয়েছে। এমনকি বিদেশি ক্রেতাদের কয়েকটি পোশাক কারখানার পরিবেশ ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
এর আগে গত নভেম্বর মাসে সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক পোশাক শ্রমিকের প্রাণহানি হয়।

No comments:
Post a Comment