Thursday, May 16, 2013

পোশাকশিল্প: বাংলাদেশের বিকল্প খুঁজছে বিদেশি ক্রেতারা


ঢাকা: বিশ্ব তৈরি পোশাক কারখানার ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্ঘটনার পর বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের বিকল্প খুঁজছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কোম্পানির নির্বাহীরা সফর শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক ভিত্তিক একটি সংবাদ মাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে। এতে নিউইয়র্কভিত্তিক ফ্যাশন কোম্পানি জোসেফ মডেল অ্যাসোসিয়েটস-এর প্রধান নির্বাহী বেনেট মডেলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, তার কোম্পানি গুয়েতেমালা থেকে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছে। এসব দেশে শীর্ষ খুচরা বিক্রেতা বার্গডর্ফ গুডম্যান ও নিম্যান মারকাসের পোশাক তৈরি হয়।

বেনেট মডেল ১৯৭৫ সালে চীন থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানির ব্যবসা চালু করার ক্ষেত্রে পুরোধা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

গত ২৪ এপ্রিল বহুতল ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনায় ১১২৭ জনের প্রাণহানি হয়। এরপরই বিদেশি বহু ক্রেতা নিরবচ্ছিন্নভাবে নতুন স্থানের সন্ধানে রয়েছে, যেখানে তাদের পোশাক তৈরি হবে।

বেনেট মডেল সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক কেনা রাজনৈতিকভাবে ভুল, দেশটিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বড় বড় অনেক ক্রেতা বিকল্প খুঁজছে।”

আমেরিকার বৃহৎ একটি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের একজন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী গত সপ্তাহে বেনেটের কাছে বাংলাদেশের সাপ্লায়ারদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিকল্প অনুসন্ধানের জন্য ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া সফরের জন্য বলেন। বেনেট এই পরামর্শ নিয়ে যোগ করেন, “ইন্দোনেশিয়াতেও দেখা যেতে পারে।”

মডেল বলেন, “ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশের নাম একটি কোম্পানির জন্য দুর্নাম বয়ে আনছে।”

পশ্চিমা ক্রেতারা তাদের সম্ভাব্য সাপ্লায়ার খুঁজছে ভিয়েতনাম, মধ্য কম্বোডিয়া ইন্দোনেশিয়ার জাভায়। তবু নিরাপত্তার বিষয়টি যে কোনো স্থানেই সমস্যা। বৃহস্পতিবার সকালেই মধ্য কম্বোডিয়ার একটি কারখানার সিলিং ভেঙে পড়ে দুইজন নিহত হয়। আহত হয় নয়জন।

সম্প্রতি জাকার্তায় জেডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেল পশ্চিমা ক্রেতাদের জন্য প্রিয় স্থান হয়ে উঠেছে। সংক্ষিপ্ত নোটিশে কেউ চাইলেই এই হোটেলে রুম বুকিং দিতে পারছে না। ইন্দোনেশিয়ার তৈরি পোশাক কারখানার নির্বাহীরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে বা মাসে পশ্চিমা ক্রেতাদের তারা বেশ ভিড় লক্ষ্য করেছেন। ক্রেতারা বারবার তাদের একই প্রশ্ন করেছে, রাজনীতিক পরিস্থিতি, শ্রম আইন, নিরাপত্তা ও বেতন নিয়ে।

ইন্দোনেশিয়ান টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আদে সুদ্রাদজাত বলেন, “প্রথমত, চীনে অনেক ব্যয়বহুল, তারপর বাংলাদেশে ট্র্যাজেডি ও দেশটির আরো সমস্যার কারণে ক্রেতারা এখানে আসছে। ক্রেতারা বাংলাদেশে অর্ডার দিতে অস্বস্তি বোধ করছে।”

No comments:

Post a Comment