বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ‘বিতর্ক’ ও রাজনৈতিক বিরূপ
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের
ফাঁসির রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেন্ট্রেল এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার
ওয়াশিংটন ডিসির মিডিয়া সেন্টারে দৈনন্দিন সংবাদ সম্মেলন চলাকালে এ বিষয়ে
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখী হন ভেন্ট্রেল। সাভারের ভবন ধসের প্রেক্ষাপটে
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও তাকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
কামারুজ্জামানের ফাঁসি প্রসঙ্গে ভেন্ট্রেল বলেন, “যারা অপরাধ করেছে
যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিচারের আওতায় আনার পক্ষে- এ কথা আমরা বাংলাদেশের
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ের সময় থেকেই বলে আসছি।“তবে
আমরা মনে করি, এ ধরনের বিচার অবশ্যই অবাধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার সঙ্গে
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হতে হবে। বেসামরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ে
আন্তর্জাতিক চুক্তিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অনুসমর্থনের মাধ্যমে
বাংলাদেশ বিচারের সেই আন্তর্জাতিক মান সমুন্নত রাখতে সম্মত হয়েছে।”
‘অস্থিরতা’
থাকলেও বাংলাদেশ সরকার সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সবাইকে
‘শান্তিপূর্ণভাবে’ মতামত প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করবে বলেই আশা প্রকাশ করেন
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
তিনি বলেন,
“শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। একইসঙ্গে আমরা
দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সহিংসতা কখনোই প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।”
সুনির্দিষ্টভাবে
কামারুজ্জামানের বিচার নিয়ে প্রতিক্রিয়া চাইলে প্যাট্রিক ভেন্ট্রেল বলেন,
“আমি মনে করি না যে প্রতিটি মামলার বিচার সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু
বলার মতো অবস্থায় রয়েছি। তবে আমাদের অবস্থান আমরা বাংলাদেশিদের কাছে
অত্যন্ত স্পষ্ট করেছি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের বিচার ‘রাজনৈতিক
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে যে অভিযোগ বিএনপি করে আসছে - সে বিষয়ে মন্তব্য চাইলে
সরাসরি জবাব না দিয়ে ভেন্ট্রেল বলেন, “আমি আবরো বলছি, যারা ভিন্নমত পোষণ
করছেন তারা যেন তা শান্তিপূর্ণভাবে করেন। আমরা অবাধ ও জবাবদিহিমূলক
প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করি।”সাভারে ভবন ধসে বিপুল প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে
হালগানাদ তথ্য জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়, শ্রম দপ্তর, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য প্রতিনিধি, বাংলাদেশে
যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ক্রেতা ও পোশাক খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।
“আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের সঙ্গেই শুধু নয়, সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”
No comments:
Post a Comment